পাকিস্তানি জঙ্গিদের মদতে পশ্চিমবঙ্গেই তৈরি হচ্ছে অস্ত্র। আতঙ্ক রাজ্যজুড়ে।

পাকিস্তানি জঙ্গিদের মদতে পশ্চিমবঙ্গেই তৈরি হচ্ছে অস্ত্র। আতঙ্ক রাজ্যজুড়ে

হিন্দুনববার্তা । ফ্রেব্রুয়ারী ২০. ২০১৭
Share it on

পাকিস্তানের কিছু আদিবাসী জঙ্গির গোপন আনাগোনা ছিল মালদায়। বিহারের মুঙ্গের থেকে কিছু বন্দুক নির্মাণকারী সেখানে ঘাঁটি গেড়েছিল।
1487573182917.jpg

গত ১ জুলাই বাংলাদেশের ঢাকার গুলশন কাফেতে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। মারা গিয়েছিলেন ২০ জন বিদেশি, যাঁদের মধ্যে ছিলেন এক ভারতীয় তরুণীও। সেই হামলায় যে অ্যাসল্ট রাইফেল ব্যবহার করেছিল জঙ্গিরা, সেগুলো তৈরি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গেই। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাতে গ্রেফতার হওয়া ৬ জঙ্গির মধ্যে  এক জন এই স্বীকারোক্তি করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি(এনআইএ)-র গোয়েন্দাদের কাছে। যে তথ্য গোয়েন্দাদের কপালের ভাঁজকে আরও গভীর করেছে তা এই যে, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এই অস্ত্র তৈরিতে সাহায্য করেছিল খোদ পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা।

ওই স্বীকারোক্তিকারী জঙ্গি জানিয়েছে, পাকিস্তানের কিছু আদিবাসী জঙ্গির গোপন আনাগোনা ছিল মালদায়। বিহারের মুঙ্গের থেকে কিছু বন্দুক নির্মাণকারী সেখানে ঘাঁটি গেড়েছিল। তাদের অস্ত্র নির্মাণে প্রশিক্ষণ দেওয়াই ছিল ওই পাকিস্তানি জঙ্গিদের কাজ। তারপর অস্ত্র তৈরি হয়ে গেলে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে সেইসব অস্ত্রশস্ত্র পাচার হয়ে যেত বাংলাদেশে। এনআইএ-র গোয়েন্দাদের অনুমান, যে পাকিস্তানি জঙ্গিরা এরাজ্যে অস্ত্র প্রশিক্ষণের কাজ করতে এসেছিল তারা পেশোয়ার ও কোহটের মধ্যবর্তী একটি গ্রামে বসবাসকারী দারা আদম খেল গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তালিবানদেরও এই গোষ্ঠী নিয়মিত উন্নত মানের অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে থাকে বলে মনে করা হয়। এনআইএ-র এক সিনিয়র অফিসার জানান, ‘আমরা ঠিক নিশ্চিত নই, তবে ওদের মুখে যে ধরনের ভাষা শুনেছিল বলে এই জঙ্গি জানিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে খাইবার পাখতু‌নখোয়া অঞ্চলের ভাষা সেটি। ওই অঞ্চলেই দারা আদম খেল গোষ্ঠীর গ্রামটিরও অবস্থান।’

বাংলাদেশ প্রশাসনের তরফে অনেক আগে থেকেই দাবি করা হচ্ছিল যে, গত ১ জুলাই গুলশনের হোলে আর্টিসান বেকারিতে যে হামলা চালানো হয়, তার অস্ত্রশস্ত্র এসেছিল সীমান্তের এপার থেকে। বাংলাদেশের সন্ত্রাসদমন শাখার প্রধান মনিরুল ইসলাম সুনির্দিষ্টভাবে মুঙ্গেরের নামই উল্লেখ করেছিলেন। এবার বাংলাদেশের অভিযোগ মান্যতা পেল বলে মনে করা হচ্ছে। ধৃত জঙ্গির স্বীকারোক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিহার পুলিশও এই প্রসঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে।

হিন্দুনববার্তা।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s