পুরাণের কল্কি অবতার কোনো ভাবে নবী মুহাম্মাদ নয়! বাংলাদেশের ইসলামী সাহিত্য প্রকাশনালয় ও পশ্চিমবঙ্গের জামায়াতে ইসলামী হিন্দের দ্বারা প্রকাশিত আর্টিকেল মুহাম্মাদ সাহেব ও কল্কি অবতারের সাপেক্ষে আপডেট।

মানে কিছু জিহাদি মুসলমান ও মৌলবাদী ইসলামি সংগঠন সাধারণ হিন্দুদের ব্রেণওয়াশ করে মুসলমান বানানোর চেস্টাতে খুব সক্রিয়। শুধু বাংলাদেশ নয় পশ্চিমবঙ্গেও এই মৌলবাদী মুসলমানরা এই চেস্টার জন্য হামেশা কাজে লেগে থাকে। এরা Social Media কে হাতিয়ার করে বিভিন্ন হিন্দু ও ইসলাম ধর্মের তুলনা ও সাদৃশ্য ভিত্তি আর্টিকেলের প্রচার সহ কিছু পত্র-পত্রিকা বাজারে এনেছে বা এই টাইপের জিনিস গুলোর খুব প্রচার করছে হিন্দুদের মাঝে। অনেক সময় তারা তো বিনামূল্যে এইসব মগজ ধোলাইকারী পত্র-পত্রিকা গুলো হিন্দুদের মাঝে বিতরণ করে বেড়াই।

হিন্দুনববার্তা বাংলা ডেস্ক :

1487674196128

 

তাদের উদ্দেশ্য অতি সরল সর্বধর্ম সমন্বয়ের আড়ালে হিন্দুদের মগজ ধোলাই করে তাদের মনে ধর্মান্তকরণের বীজ রোপন করা বা হিন্দুসংকোচক মনোভাব উৎপন্ন করা। খুব দুঃখের বিষয় কতিপয় নামধারী হিন্দুপণ্ডিত/শাস্ত্রবিদ/বিজ্ঞজনেরা নি্জেদের স্বার্থপূর্তির জন্য সেইসব জিহাদি বা কট্টরবাদী মুসলমানদের এই কাজে সাহায্য করে হিন্দুদের সর্বনাশের বীজের জল দেওয়ার কাজ করছে।

তাদের এই প্রচার করা বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক আর্টিকেল গুলোর মধ্যে অন্যতম হিন্দুধর্মের অন্তিম অবতার “কল্কি যিনি নবী মুহাম্মাদ”। প্রমাণ স্বরূপ তারা কিছু বৈশিষ্ট তুলে ধরে যার সাথে নবী মুহাম্মাদ ও কল্কির কিছু মিল দেখাতে পাওয়া যায়। মজার বিষয় হচ্ছে ইনারা সহ ইসলামি বুদ্ধিজীবিরা পুরাণ কে একটি সত্য বা চরিত্রের আলেখ্য হিসাবে বিশ্বাস করে, যাতে মুল কাহিনী বা চরিত্রের প্রভুত পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তারা সেইটুকু সত্যতা বা চরিত্রকে ঠিকভাবে তুলে ধরে না বা গ্রহণ করে না বা নিজের ইচ্ছা মতো কিছুটা মেনে নেয় আবার কিছুটা প্রকাশ করে না আবার কিছুটা ভ্রান্ত ধারণা ঢ়ুকিয়ে দেয়। এরজন্য কল্কি অবতার ও নবী মুহাম্মাদের মধ্যে বহু পার্থক্য থাকার সত্ত্বেও ছিঁটাফোঁটা অস্পস্ট ও আংশিক সদৃশ্যতা দেখিয়ে দাবী করে কল্কি অবতারই নবী মুহাম্মাদ!

তারা এটাও জানে না এই থিওরীর আবিস্কারক ডঃ বেদপ্রকাশ উপাধ্যায় বহু বিতর্কের মধ্যে পড়ে শেষে এই থিওরী বাতিল হয়ে গেছে বহু সময় আগে। কিন্তু যখন “ধর্মান্তকরণ” এর প্রশ্ন আসে তখন এইসব কট্টরবাদী মুসলমানরা সেই লাশ কে কবর থেকে তুলে তাকে কাঁধে নিয়ে নগর পরিক্রমা করতে প্রস্তুত এরা। এই পোস্টটির উদ্দেশ্য কোনো ভাবে ইসলামি ধর্মানুভূতিতে আঘাত নয়, শুধু মাত্র তাদের করা মগজ ধোলাইকারী আর্টিকেলের পর্দা ফাঁস করা।
তাদের সেইসব বিভ্রান্তিমূলক আর্টিকেলের মধ্যে একটি নিচে তুলে ধরে তার

বিশ্লেষণ করা হল-
এখানে বেদপুরাণে আল্লাহ ও হযরত মোহাম্মদ(সাঃ)- ধর্মাচার্য অধ্যাপক ড. বেদপ্রকাশ উপাধ্যায়, ইসলামী সাহিত্য প্রকাশনালয়, ৪৫ বাংলাবাজার, ঢ়াকা-১১০০ এর কল্কি সম্বন্ধীয় বিভ্রান্তিমূলক পৃষ্টাগুলো তুলে ধরে তার পয়েন্ট টু পয়েন্ট বিশ্লেষণ করা হল।

১. স্থান সম্পর্কে সামঞ্জস্যতা দেখাতে গিয়ে ভন্ডামি

বই এর অংশ

1487674176476.jpg

অংশের বিশ্লেষণ
এখানে ভাগবত পুরাণ ১২.২.১৮ থেকে তুলে ধরা হয়েছে কল্কি অবতার হরফে নবী মুহাম্মাদ শম্ভল নামক স্থানে বিষ্ণুযশ নামক এক ব্রাহ্মণ ঘরে জন্মগ্রহণ করবে। এর সঙ্গে বলা হচ্ছে শম্ভল শব্দের অর্থ শান্তির ঘর, যা কিনা আরবের মক্কা শহর কে বলা হয়।

এখানে শম্ভল নামক স্থানে্র অর্থগত বিশ্লেষণ করে তাকে সুদূর আরবের মক্কাতে নিয়ে যাবো কেনো? যেখানে ভারতের উত্তরপ্রদেশে শম্ভল নামেই একটি জেলা আছে।

এমন কি সেখানে প্রাচীন শ্রী কল্কি বিষ্ণু মন্দির মন্দিরও আছে এবং কল্কির অবতীর্ণ ক্ষেত্র স্বরূপ বহু আগেই এখানে মন্দির বানানো হয়েছে।

 

1487674153148.jpg

 

দাবীর সাথে সাথে কতিপয় ইসলামি কুটবুদ্ধিজীবিরা আবার বিভিন্ন ব্লগপেজে দাবী করেছে “হিন্দু পুরাণ অনুসারে প্রাচীন পৃথিবীকে ৭ স্থলভাগে ভাগে ভাগ করা হয়েছিলো, তাদের মধ্যে একটি শাল্মল দ্বীপ যা আরব ও এশিয়ার মাইনর অংশ নিয়ে গঠিত

হ্যাঁ, এটি ঠিক পুরাণ অনুসারে পৃথিবীর স্থলভাগ(দ্বীপ) কে সপ্তদ্বীপে ভাগ করা হয়েছিলো যথা – “জম্বু(বর্তমানে ভারত), প্লক্ষ, শাল্মল, কুশ, ক্রৌঞ্চ, শাক ও পুস্কর”। কিন্তু সেই পুরাণে প্রতিটা দ্বীপের বর্ণনাও দেওয়া আছে, এখানে শাল্মলদ্বীপের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হচ্ছে এখানে – ৭টি পর্বত ও ৭টি নদী আছে, এখানে বর্ণশ্রম ব্যাবস্থাও প্রচলিত, এখানকার মানুষেরা যাগ যজ্ঞ করে, এখানে বৃহৎ শিমূলগাছ আছে যাতে দেবতারা তৃপ্তিলাভ করে। এখন প্রশ্ন হল নবী মুহাম্মাদের জন্মের সময় মক্কা শহরে কি সেই রকম কিছু ছিলো সেখানে?

(বিষ্ণুপুরাণের দ্বিতীয় অধ্যায়ের স্কিনশট)

এই শাল্মল দ্বীপ একটি মহাদেশীও স্থলভাগ কে চিহ্নিত করে যেখানে শম্ভল মহাদেশীও একটি নির্দিষ্ট স্থান কে চিহ্নিত করে, এই দুটো কোনো ভাবে এক জিনিস নয়।

২. অশ্বারোহন ও খড়গ ধারণ করার নামে মিথ্যাচার

বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
এবার উনারা ভাগবত পুরাণ ১২.২.১৯ থেকে দেখাতে চান কল্কি দ্রুতগামী অশ্বের উপর আসীন থেকে তরবারি হাতে দুষ্টদের দমন করবেন, যা নবী মুহাম্মাদের সাথে মিলে যায়।
কিন্তু সেই ভাগবত পুরাণ ১২.২.১৭ তে বলা হচ্ছে স্বয়ং শ্রীবিষ্ণু অবতার হিসাবে জন্মগ্রহণ করবেন, শ্রীবিষ্ণু সম্পর্কে সেই শ্লোকে বলা হচ্ছে তিনি সর্বশক্তিমান ও সর্ব্ব্যাপী ও জগদগুরু।

(ভাগবত পুরাণের স্কিনশট)

হিন্দু অবতার থিওরীতে পরমেশ্বর মানব শরীর ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং হিন্দুগ্রন্থ হোক সেটা বৈদিক বা পৌরাণিক প্রতি ক্ষেত্রে  বিষ্ণু হল পরমেশ্বরের আরেক নাম। ইসলামি ভাষাই পরমেশ্বর হল “আল্লা”।
তবে কি তামাম মুসলিম সমাজ এটা মানে নবী মুহাম্মাদই হল আল্লা? এছাড়া ইসলামি কোরআনে মহান আল্লা নিজের জন্য “সর্বশক্তিমান” বিশেষণটি ব্যাবহার করেছেন, নবী মুহাম্মাদের জন্য নয়!

সবচেয়ে মজার বিষয় এই শ্লোকে বলা হচ্ছে কল্কি অশ্বে বসে তরবারি হাতে দুষ্টদের দমন করবে, আর কোথাই নবী মুহাম্মাদ বোরাক নামে এক জীবের পিঠে চড়ে রাত্রের অন্ধকারে মক্কা থেকে জেরুজালেম বেড়াতে গিয়েছিলো ওলাইলাতুল মেরাজের নামে আল্লার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলো সাত আসমান পাড় করে।

অনেক ইসলামি বিজ্ঞ বলে সেই রাত্রে নাকি উনি উম্মে হানীর ঘরে হানা দিতে গিয়েছিলো, যদিও এই নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে অনেক বিতর্ক আছে।

৩. জগৎগুরুর নাম ভাঙিয়ে ভন্ডামি

বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
পুস্তকে লিখিত অংশ- “ভাগবত পুরাণে কল্কি অবতারকে জগৎ পতি বলা হয়েছে। যিনি উপদেশাবলী দ্বারা অধঃপতিত পৃথিবীকে উদ্ধার ও রক্ষা করেন, তাঁকে জগতপতি বলা হয়। তিনি নির্দিষ্ট কোনো জাতির গুরু নহেন। তিনি হলেন সমগ্র বিশ্বের গুরু”

যদিও জগৎগুরু কে এই নিয়ে এক এক জনের ভিন্ন দৃষ্টিকোন থাকে। বেদপ্রকাশ মহাশয় এখানে ভাগবত পুরাণের ভিত্তিতে মুহাম্মাদ কে জগৎগুরু্র খেতাব দিয়েছেন। বাস্তবে এখানে শ্রীবিষ্ণু উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে তিনি সর্বশক্তিমান ও সর্ব্ব্যাপী ও জগদগুরু। এখানে ভাগবত পুরাণের সঙ্গে যদি সামঞ্জস্য রেখে উনা্র সমীকরণটা বানাই তবে দাঁড়াবে এই রকম “নবী মুহাম্মাদই সর্বশক্তিমান, সর্ব্ব্যাপী, জগদগুরু এবং তিনিই আল্লা যিনি মানব রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন”। এই সমীকরণটা তামাম মুসলিম সমাজ মানতে কি প্রস্তুত?

 

1487674176476

 

৪. কল্কির খৎনা করানোর চেস্টা

বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
বেদপ্রকাশ মহাশয় ভাগবত পুরাণ ১২.২.২০ থেকে দেখাতে চান- বেগবান অশ্ব দ্বারা বিচরণকারী অপ্রতিম কান্তিময়, লিঙ্গের অগ্রভাগে ছেদিত, রাজার বেশে গুপ্ত অগণিত দস্যুগণকে সংহার করবেন।

যেহেতু উনি সংস্কৃতে অভিজ্ঞ তাই উনি এখানে শব্দের অর্থের হেরফের করে শ্লোকের অর্থের কিছু বিকৃতি করেছেন এবং উনি এখানে এই শ্লোকের পূর্ব ও পশ্চাৎ শ্লোকের ও হিন্দুরীতি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে, শুধুমাত্র কল্কিকে মুহাম্মাদ বানানোর জন্য নিজের মতো করে এক অনুবাদ করেছেন।

নৃপলিঙ্গচ্ছদো = (নৃপ)রাজ+(লিঙ্গ)জ্যোতিচিহ্ন/লক্ষণ+(চ)সহিত+(ছদ)আবৃত/বেষ্টিত = রাজার লক্ষণাদি বৈশিষ্ট্যগুলো দ্বারা আবৃত

প্রমাণ স্বরূপ নৃপলিঙ্গচ্ছদো এর অর্থ নিচের কয়েকটি অনুবাদে Underline করে দেওয়া হল, দেখুন উনারা কেউ কল্কির খৎনা করানোর চেস্টা করেছে কি না।

অনুবাদ- International Gita Society
অনুবাদ – গীতাপ্রেস গোরক্ষপুর বাংলা অনুবাদ
অনুবাদ-গীতাপ্রেস গোরক্ষপুর হিন্দি অনুবাদ
অনুবাদ- শ্রীযুক্ত আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশ মহাশয়

এখানে কোনো অনুবাদে ‘নৃপলিঙ্গচ্ছদো’ এর অর্থগত দিক থেকে ‘লিঙ্গের অগ্রভাগে ছেদিত’ কেউ উল্লেখ করে নাই, এক ওই স্বার্থবাদী পন্ডিত বেদপ্রকাশ ছাড়া!

পন্ডিত বেদপ্রকাশ নিজের জ্ঞান কে যেহেতু হিন্দু থেকে মুসলিম ধর্মান্তকরণে কাজে ব্যাবহার করেছিলো তাই মুসলিমদের কাছে উনি অনেক খেতাব পেয়ে থাকেন, এই যেমন – ধর্মাচার্য, পণ্ডিত, মহাজ্ঞানী, শাস্ত্রবিদ ইত্যাদি ইত্যাদি।

৫. মাধব মাস ও জন্ম তিথি নিয়ে মিথ্যাচার

বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
প্রাচীন বৈদিক সময়ে ঋতু অনুসারে বছর কে ১২ মাসে ভাগ করা হয়েছিলো এর মধ্যে বসন্ত কে মধু ও মাধব মাস বলা হয়।

প্রমাণ –

(1) Linga Purana – By B.K. Chaturvedi, Bhojraj Dwivedi, p241

 

(2) Astrology and Religion in Indian Art – By Swami Sivapriyananda, p15

 

(3) The Cosmology of the Bhagavata Purana: Mysteries of the Sacred Universe – By Richard L. Thompson, p66

 

(4) Vedic Index of Names and Subjects, Volume 2 – By Arthur Anthony Macdonell, Arthur Berriedale Keith, p161

অর্থ্যাৎ বাংলা বসন্ত ঋতু হিসাবে ফাল্গু্নের শুরু ও চৈত্রের শেষ  (ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল) মাস পূর্বে মাধব মাসের অংশ ছিলো এবং এই মাসে কল্কির জন্মের কথা বলা হয়েছে।

নবী মুহাম্মাদ কবে জন্মেছে তার সঠিক হিসাব এখনো কেউ ঠিক ভাবে বলতে পারে না, তবে অনেকে অনুমান করে তারিখ টি সম্ভবত রবিউল আউয়ালের ১২ অথবা ১৭, রবিউল আউয়াল যা আনুমানিক ইংরেজি মাস হিসাবে আনুমানিক ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এর মধ্যবর্তী কোনো একটি সময়। অর্থ্যাৎ বৈদিক সময় অনুসারে মাসটি সম্ভবত সহাস্য থেকে তপাস্য এর মধ্যে কোনো একটা সময়ে, যেখানে মধু ও মাধব মাস এর পরে শুরু হয়।

এছাড়া এখানে বেদাঙ্গ জ্যোতিষ অনুসারে কল্কির অবতীর্ণর সময়টা কেমন হবে তাও বলা সম্ভব – মাধব মাসের জন্য যখন সূর্য অবস্থান করবে রাশিচক্রের কুম্ভরাশির থেকে মীনরাশির এর মধ্যবর্তী কোনো একটি অবস্থানে এবং চন্দ্র তার শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে অবস্থান করবে।
এবার প্রশ্ন হল সেইসব ঘাসে মুখ দিয়ে চলা মুসলমানদের – নবী মুহাম্মাদের জন্মের সময় এই রকম জ্যোতিষ অবস্থা ছিলো সেটা কি তারা প্রমাণ করতে পারবে কোনোভাবে ?

শেষে অবশ্য তারা তাদের মূর্খতার প্রমাণ দিয়েছে, রবিউল আউয়াল মাস মানে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যবর্তী ও শুক্ল পক্ষের দ্বাদশ কোনো তারিখ নয় এটা একটা তিথি, এই তিথির তারিখ যে কোনোদিন হতে পারে, তবে সেই দিন উক্ত জ্যোতিষ অবস্থা হওয়া চাই।

৬. কল্কির পরিবার নিয়ে ভণ্ডামি

বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
প্রথমত, এখানে স্পস্ট বলা হচ্ছে কল্কি এক ব্রাহ্মণ ঘরে জন্মগ্রহণ করবে, অর্থ্যাৎ যে ঘরের মানুষেরা দশম সংস্কার পালনকারী, চার বেদের অধ্যায়ণ করে ও বেদের জ্ঞান কে রক্ষা করে। এটা আমি নয় কল্কির পিতা বিষ্ণুযশা নিজেই বলেছে-কল্কিপুরাণের ২.৩৮ তে।

(উক্ত স্কিনশট)

কিন্তু এইসব মুসলমানরা ভাবে যে, যারা শুধু হিন্দু সমাজে পূজাঅর্চনা করে সেই ব্রাহ্মণ। তার জন্য কাবাঘরের মূর্তির পূজাঅর্চনাকারী নবী মুহাম্মাদের পিতৃবংশ কে এরা ব্রাহ্মণ বলে চালিয়ে দিচ্ছে, ব্রাহ্মণের বাকি গুণ গুলো আর দেখার প্রয়োজন বোধ করে না।
দ্বিতীয়ত, কল্কি পুরাণের ২.৪ তে কল্কির যে বাবার নাম পাওয়া যায় তা হল “বিষ্ণুযশা” এবং মায়ের নাম “সুমতি”।

(স্কিনশট)

আশ্চর্যব্যাপার হচ্ছে যেখানে “বিষ্ণুযশা” ও “সুমতি” দুটি স্পস্ট হিন্দুয়ানি না্মের উল্লেখ আছে, সেখানে মুসলিম তোষণের জন্য এর অর্থগত বিশ্লেষণ করে এদের আরবি “আমিনা” “আবদুল্লাহ” বানাতে যাবো কেনো?
এইভাবে অর্থ বিশ্লেষণ করে দেখতে গেলে প্রতিটা হিন্দু ঘরে থেকে একটি না একটি – দেবতা, দেবী ও অবতার জন্মের কথা এবং মুসলমান ঘর থেকে মুহাম্মাদ, নবীর বংশের ও নবীর ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত বহু সাহেবীর জন্মের কথা পাওয়া যাবে। অনেক মুসলমান তার ছেলের নাম “আবদুল্লাহ” রাখে, তাহলে সে কি নবী মুহাম্মাদের বাবা?

এই রকম শব্দের খেলা যদি আমি খেলি তবে আমিও চৈতন্যমহাপ্রভুকে মুসলমানদের শেষ ইমাম, মেহেদি বানাতে পারি! ইমাম শব্দের অর্থ বলতে সেই পণ্ডিত ব্যাক্তিকে বোঝাই যে নামাজের পরিচালনা করে অর্থ্যাৎ যে পণ্ডিত ব্যাক্তি উপাসনার পরিচালনা করে এবং মেহেদি শব্দের অর্থ সুপথের সন্ধান প্রাপ্ত। শ্রীচৈতন্য কে-মহাপ্রভু ও কৃষ্ণনাম কীর্তনের পরিচালক হিসাবে ভূষিত করা হয়(ইমাম) এবং তিনি হরেকৃষ্ণ নামের মাধ্যমে মানুষের সুপথ সন্ধান করেছেন(মেহেদি)এরসঙ্গে তিনি শান্তির বাণীর প্রচারক(ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি)। তাহলে অর্থগত বিশ্লেষণ করে দাঁড়ালো চৈতন্যমহাপ্রভুই সেই ইমাম মেহেদি! আশা করি আমার এই শব্দের খেলা মুসলমানেরা মেনে নেবে!

৭. অন্তিম বা শেষ অবতার

বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
স্পস্টত নবী মুহাম্মাদ আব্রাহামিক ধর্মের শেষ নবী এবং পৌরানিক ধারণা অনুসারে কল্কি অবতার আসবে কলির শেষ ভাগে, যে সময় এখনো উপস্থিত হয়নি। তবে আগাম কল্কি মুহাম্মাদ হিসাবে জন্ম নেই কি করে?

(স্কিনশট ভগবত পুরাণ ১২.২.১৬)

বিশেষভাবে এখানে দেখুন কল্কি আসবে ধর্মরক্ষার জন্য অর্থ্যাৎ আগে যেসনাতন ধর্ম ছিলো তারই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন তিনি, কিন্তু মুহাম্মাদ এসেছে ইসলাম নামে এক নতুন ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য। এমনকি এটা আরো স্পস্ট করা হয়েছে কল্কির অবতরণের সাথে সত্যযুগের শুরু হবে অর্থ্যাৎ সত্যযুগের ন্যায় সনাতন ধর্ম আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে।

(স্কিনশট ভগবত পুরাণ ১২.২.২৩)

এখানে আবার কিছু কিছু মুসলমান আছে যারা পুরাণের ৪ যুগ কে মানে না, কিন্তু পুরাণের কল্কি কে মুহাম্মাদ বানানোর তামাম তথ্য যা ওরা পুরাণ থেকে সংগ্রহ করে সেগুলো কে ঠিক মানে।

তাদের পৌরাণিক যুগের হিসাব মানতে হবে না, তারা অন্তত জ্যোতিষ হিসাবটা মানুক! এখন আধুনিক বিজ্ঞান একটি থিওরী আবিস্কার করেছে “মহাকাশের প্রসারন থিওরী” এই থিওরী অনুসারে মহাকাশ সময়ের সাথে সাথে প্রসারিত হচ্ছে। যার জন্য গ্রহ নক্ষত্রদের মধ্যে দূরত্ব বেড়েই চলেছে। এরজন্য আপাত দৃষ্টিতে পৃথিবী থেকে বিভিন্ন নক্ষত্র ও গ্রহদের দূরত্ব বেড়ে যায় এবং মনে হয় তারা সময়ের সাথে সাথে গতিশীল। ভাগবত পুরাণ এর ১২.২.৩১ তে যুগের জ্যোতিষ হিসাবে বলা হয়েছে “সপ্তর্ষি যখন রাশি চক্রের মঘা নক্ষত্রের উপর বিচরণ করে তখন কলিযুগের সূচনা হয়”। এখানে মহাকাশের প্রসারনের জন্য সপ্তর্ষি কে আপাত দৃষ্টিতে পৃথিবী থেকে গতিশীল মনে হয়। এরপর বলা হচ্ছে ভাগবত পুরাণ এর ১২.২.৩২ তে “যে সময় সপ্তর্ষি মঘা ত্যাগ করে পূর্বাষাঢ়া নক্ষত্রে চলে যাবে তখন কলিযুগের বৃদ্ধির সূচনা হবে” এবং ভাগবত পুরাণ এর ১২.২.২৮ তে বলা হয়েছে “যখন রাশিচক্রে চন্দ্র সূর্য ও বৃহস্পতি এক সময়ে একসঙ্গে পুষ্যা নক্ষত্রে প্রথম পলে প্রবেশ করে ও একই রাশিতে অবস্থান করে তখন সত্যযুগের সূচনা হয়ে যায়”। নবী মুহাম্মাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কখনও এই রকম জ্যোতিষগত অবস্থার সৃষ্টি হয়নি, সুতরাং সত্যযুগ শুরু হয়নি, তাই নবী মুহাম্মাদ কোনো কল্কি অবতার নয়, এক হিসাবে মিটে যাচ্ছে।

অনেক মুসলমান আছে যারা মুহাম্মাদকে বিশ্বনবী, বিশ্বে মানবদের জন্য প্রেরিত অন্তিম নবী হিসাবে মানে। এটা তাদের একটি ব্যাক্তিগত ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি শব্দের দিক দিয়ে বিচার করি, তবে নবী শব্দের অর্থ ঈশ্বরের বার্তাবাহক রূপে দাঁড়াবে। তাহলে যেসব মুসলমানরা মুহাম্মাদকে বিশ্বের শেষ নবী বলে দাবী তোলে তারা ইসলামের পরে আগত শিখ ধর্মের ১০ গুরুর ব্যাপারে কি বলবে? শিখ ধর্মের ১০ গুরু শিখদের জন্য “ঈশ্বরের বার্তাবাহক” অর্থ্যাৎ নবী!

৮. চার সঙ্গীর সাথে কলি দমনের নামে মিথ্যাচার।

বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
যেখানে কল্কি পুরাণে স্পস্ট করে নাম সহ কল্কির  নিজের ৩ বড় ভাইএর কথা বলা হয়েছে, যারা কল্কিকে এই যুদ্ধে সাহায্য করবে, সেখানে সূদুর আরবে কোন মুহাম্মাদের তিনজন সাহবী – আবুবকর, উমর, উসমান কে এখানে টানবো কেনো?

(কল্কিপুরাণ ২.৩১)

 

৯. শিব কর্তৃক কল্কিকে অশ্বদানের নামে ভণ্ডামি

বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
এখানে ভগবান শিব শুধু কল্কিকে একটি ঘোড়া নয়, সঙ্গে একটি তোতাপাখি ও একটি শক্তিশালি তলোয়ার দেবে, যা “কলি” নামক শয়তানের সাথে যুদ্ধ করার সময় কাজে আসবে।

(কল্কিপুরাণ-৩.২৫ ও ২৭ ও ২৮)

আর কোথাই নবী মুহাম্মাদ বোরাক নামে এক জীবের পিঠে চড়ে রাত্রের অন্ধকারে মক্কা থেকে জেরুজালেম বেড়াতে গিয়েছিলো ও লাইলাতুল মেরাজের নামে আল্লার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলো সাত আসমান পাড় করে। উনার এই দুটি ভ্রমণ পর্ব শেষ হলে সেই আল্লার বোরাক আল্লাই কাছে চলে গিয়েছিলো।

১০. কল্কির পর্বতে গমন এবং প্রত্যাবর্তনের নামে মিথ্যাচার

বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
কল্কি, মুহাম্মাদের ন্যায় পাহাড়ের(হেরা) গুহাতে জিব্রাইলের সাথে সাক্ষাত করার জন্য যাবে না।কল্কি যাবে তার গুরুদেব পরশুরামের আশ্রমে ব্রহ্মচর্যের জন্য

(কল্কি পুরাণ-৩.১)

তিনি সেখানে ৬৪ কলা কৌশল সহ, বেদ ও বেদের বিভিন্ন শাখা যেমন ধনুর্বেদইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করবেন

(কল্কি পুরাণ-৩.৬)

এরপরে তিনি তার ব্রহ্মচর্য অংশ শেষ করে আবার নিজ জন্মস্থান শম্ভল গ্রামে ফিরবেন।

যদি এখানে লেখকের কথা মেনে নিই এবং কল্কিপুরাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখি তবে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে মুহাম্মাদ জিব্রাইলের কাছে থেকে কুরআনের বাণী অবতীর্ণের নাম ভাঙিয়ে গোপনে হেরা পাহাড়ে গুহাতে গিয়ে বেদের অধ্যায়ণ করতো!

“সবার শেষে সেইসব তামাম মুসলমানদের আমি বলবো, কল্কি কে যেমন মুহাম্মাদ হিসাবে বিশ্বাস করেন, তেমনি আপনারা ইসলামি কালেমা, কুরআন ও হাদিস থেকে মুহাম্মাদ নামটা হটিয়ে দিয়ে কল্কি বসিয়ে দেওয়া কে হালাল ঘোষণা করুন। তালি তো আর এক হাতে বাজে না”
হিন্দুনববার্তা বাংলা ডেস্ক :
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s