সকলের সদগুরুর আশ্রয় গ্রহন শাস্ত্রের প্রথম নির্দেশ।। হরেকৃষ্ণ।

সকলের সদগুরুর আশ্রয় গ্রহন
শাস্ত্রের প্রথম নির্দেশ।। হরেকৃষ্ণ।

 

received_243523406102182received_1831143770480498

হিন্দুনববার্তা বাংলা ডেস্ক: february.22.2017.

মহারাজ উত্তানপাদের পুত্র এবং
ভগবানের এক মহান ভক্ত রাজপুত্ৰ ধ্রুব
যখন পাঁচ বছর বয়সের বালক ছিলেন ,
তখন একদিন তার পিতার কোলে বসে
ছিলেন । কিন্তু তার বিমাতা তার
প্রতি রাজার এই স্নেহ প্ৰদৰ্শন সহ্য
করতে পারেনি । তাই সেই বিমাতা
সুরুচি এই বলে তাকে রাজার কোল
থেকে নামিয়ে দেয় যে, তার গৰ্ভে
জন্মগ্ৰহণ না করার ফলে তার রাজার
কোলে বসার কোন অধিকার নেই ।
#বিমাতার এই আচরণে ধ্রুব অত্যন্ত
অপমানিত বোধ করেছিলেন এবং তার
মায়ের কাছে গিয়ে অভিযোগ
করেছিলেন । কিন্তু তার মাও এই
অপমানের কোন প্ৰতিকার করতে সক্ষম
না হয়ে কেবল ক্ৰন্দন করেছিলেন ।
#বালক ধ্রুব তখন তার মাকে
জিজ্ঞাসা করেছিলেন কিভাবে তিনি
তার পিতার সিংহাসনের থেকেও
উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন ;
দুঃখিনী রানী সুনীতি তখন উত্তর
দিয়েছিলেন যে, ভগবানই কেবল তার
সেই আশা পূৰ্ণ করতে পারেন ।
বালক তখন জিজ্ঞাসা করেছিলেন
কোথায় ভগবানের দেখা পাওয়া যায়
এবং রানী উত্তর দেন যে মহান
ঋষিরা কখনো কখনো গভীর অরণ্যে
ভগবানের দৰ্শন লাভ করে থাকেন ।
তার ঈঙ্গিত বস্তু লাভের জন্য তখন
সেই বালক রাজপুত্ৰ ধ্রুব কঠোর তপস্যা
করার জন্য অরণ্যে গমন করতে মনস্থ
করেন । রাজকুমার ধ্রুব ভগবান কতৃক
প্রেরিত তার গুরুদেব শ্ৰীনারদ মুনির
নির্দেশ অনুসারে অত্যন্ত কঠোর তপস্যা
করেছিলেন ।
# নারদ মুনি ধ্রুবকে ”ওঁ নমো ভগবতে
বাসুদেবায়” মস্ত্ৰে দক্ষিত করেন এবং
ভগবান বাসুদেব পৃশ্নিগৰ্ভ নামক চতুভূজ
রপে অবতরণ করে রাজকুমার ধ্রুবকে
সপ্তর্ষিমণ্ডলেরও উৰ্ব্বে এক বিশেষ
গ্ৰহলোক প্ৰদান করেছিলেন।
# ঈস্পিত ফল লাভের পর রাজকুমার
ধ্রুব ভগবানের সাক্ষাৎ দৰ্শন পান
এবং তার সমস্ত অভাব পূরণে পরিতৃপ্ত
হয়েছিলেন । ধ্রুব মহারাজকে
পুরস্কারস্বরপ যে লোক প্ৰদান করা
হয়েছিল তা হচ্ছে এক অবিচল
বৈকুণ্ঠলোক যা পরমেশ্বর ভগবান
বাসুদেবের ইচ্ছায় জড় আকাশে স্থাপন
করা হয়েছিল ।
# এই লোকটি জড় জগতে স্থিত হওয়া
সত্ত্বেও প্ৰলয়ের সময়ে ধ্বংস না হয়ে
অবিচলিতভাবে একই জায়গায় থাকবে ।
এই লোকটি বৈকুণ্ঠলোক হওয়ার ফলে
অবিনাশী ।
এই ধ্রুব লোকের নিম্নে অবস্থিত
সপ্তর্ষিমণ্ডলের ঋষিগণ,
এবং এই লোকের উপরে অবস্থিত ভৃগু
আদি মহৰ্ষিগণ এই লোকের স্তব করে
থাকেন ।
#শুদ্ধভক্তের মনোবাসনা পূৰ্ণ করার
জন্য ভগবান পৃশ্নিগৰ্ভরপে অবতরণ
করেছিলেন । রাজকুমার ধ্রুব শুদ্ধভক্ত
নারদমুনি কতৃক দীক্ষিত হয়ে উপরোক্ত
মন্ত্ৰদি উচ্চারণ করার ফলেই কেবল
সিদ্ধিলাভ করেছিলেন ।
# নিষ্ঠাবান ব্যক্তি যখন
ঐকান্তিকভাবে ভগবানের সাক্ষাৎ
লাভের জন্য বদ্ধপরিকর হন , তখন
ভগবানের শুদ্ধভক্ত তার সমক্ষে
আবির্ভুত হয়ে তাকে পথ প্ৰদৰ্শন করেন
এবং কেবল শুদ্ধভক্ত কৰ্ত্তক পরিচালিত
হওয়ার ফলে তিনি ভগবানকে দৰ্শন
করার সর্বোচ্চ সিদ্ধি লাভ করেন।
#তাই সকলের সদগুরুর আশ্রয় গ্রহন
শাস্ত্রের প্রথম নির্দেশ।। হরেকৃষ্ণ।
হিন্দুনববার্তা বাংলা ডেস্ক:

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s