দেশভাগের পরেও পাকিস্তানের এই শহরে ছিল ৮০ শতাংশ হিন্দু।

ভারত বা পাকিস্তানের ইতিহাস ঘাঁটলে উমেরকোট বা অমরকোটের নাম সেভাবে উঠে আসে না। তবে ধর্মীয় সম্প্রীতির নজির হিসেবে এই শহরের নাম যথেষ্ট গুরুত্বপুর্ণ। ১৯৪৭-এ দেশভাগ হওয়ার আগে পর্যন্ত এই শহরেই অটুট বন্ধনে ছিল হিন্দু-মুসলমান।

 

1488871675009

হিন্দুনববার্তা বাংলা ডেস্ক: ০৭.০৩.২০১৭.

বর্তমানে এক পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে এই মরু শহরের অবস্থান। ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরেই। যখন দুই ধর্মের মধ্যে বিভেদের আগুন জ্বলেছিল, ভাগ হয়ে গিয়েছিল দুই দেশ, তখনই এই শহরে সহোদরের মতই ছিল দুই ধর্মের মানুষ। কোনও ধর্মীয় হিংসা স্পর্শ করতে পারবে না তাকে। দেশভাগ হয়ে সেই শহর পড়ে পাকিস্তানের দিকে। তাতেই বিশেষ ফারাক পড়েনি সেখানকার মানুষের। পঞ্জাব কিংবা সিন্ধ প্রদেশে যখন মানুষ হিন্দুরা দেশ ছাড়ছে, তখনও এই উমেরকোটে দিব্য বাস করছে ৮০ শতাংশ হিন্দু আর ২০ শতাংশ মুসলমান।

কিন্তু, দেশভাগও যা করতে পারেনি, পরপর দুটি যুদ্ধে সেটাই হয়। ১৯৬৫ আর ৭১-এর যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের পর প্রভাব পড়ে উমেরকোটে। এরপর আর সেখানকার মানুষের ইতিহাস জানা যায়নি। জানা যায় ১৯৬৫-র আগে পর্যন্ত ৮০ শতাংশ হিন্দু বাস করতেন এখানে। বেশিরভাগই ছিলেন ‘ঠাকুর’। মূলত ব্যবসা-বাণিজ্যই ছিল এদের রোজগারের উপায়।

১৯৪৭ পর্যন্ত এভাবেই চলছিল। কিন্তু সে সুখ বেশিদিন সয়নি। ১৯৬৫-তেই উমেরকোটের বুক চিরে ছড়িয়ে পড়ল ভেদাভেদের প্রভাব। ভয় ধরে গেল মানুষের মনে। সন্দেহের বশেই দূরে সরে যেতে থাকে একে অপরের থেকে। মুসলিমরা ছিল সংখ্যালঘু। এরপরেই শুরু হয় ধর্মীয় সংঘর্ষ। উমেরকোটের ঠাকুরেরা তাদের জমিজমা বেচে আসতে শুরু করে ভারতে। যুদ্ধ থেমে যায়। কিন্তু ঠাকুরদের দেশ ছাড়া জারি থাকে। তবে ভিল, কোলির মত নিম্নবর্ণের হিন্দুরা থেকে যায়। কিন্তু ঠাকুররা চলে যাওয়ায় তারা জমি, কাজ সবই হারায়। কোনোরকমে এককোণে পড়ে থাকে তারা। শেষ হয়ে যায় সম্প্রীতির নজির।

হিন্দুনববার্তা বাংলা ডেস্ক:

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s