পৃথিবীতে অবস্থিত এক নরকের গল্প শুনলে চমকে যাবেন জানতে হলে পড়ুন।

পৃথিবীতে অবস্থিত এক নরকের গল্প শুনলে চমকে যাবেন জানতে হলে পড়ুন।

হিন্দুনববার্তা বাংলা ডেস্ক: ০৭.০৩.২০১৭.

 

 

বন্দীদের লাশ খাচ্ছে কুকুরের দল

 

পৃথিবীতে বিদ্যমান একটি নরকের নাম উত্তর কোরিয়ার ‘ক্যাম্প-২২’। এখানে কেউ একবার প্রবেশ করলে আর বের হতে পারত না।

এই ক্যাম্পে মানুষকে মানুষের চোখে দেখা হতো না, মানুষকে ব্যবহার করে ভয়াবহ সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হতো। এখানে প্রসূতি নারীদের সরাসরি পেট কেটে ভ্রূণ বের করে ফেলা হতো, কখনো বা বড় তক্তা দিয়ে পিষে পিষে গর্ভপাত করানো হতো ৮-৯ মাসের প্রসূতিকে!  এখানে অভুক্ত শিশুরা সামান্য খাবারের জন্য প্রহরীর লাথি খেয়ে মারা পড়তো। এছাড়াও নারীদের নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে মেরে ফেলে হতো।

স্যাটেলাইটে তোলা ছবি-ক্যাম্প ২২

উত্তর কোরিয়ার Haengyong Concentration Camp-কে ক্যাম্প ২২ বলা হতো। এখানে সেসব মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হতো যারা রাজনৈতিক সমালোচনা বা রাজনৈতিক ‘অপরাধী’। তবে  উত্তর কোরিয়ার নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা অপরাধী নিজে তো জেলখানায় যেতই, তার সাথে সাথে তার ৩ প্রজন্মকেও জেলখানায় পচতে হতো। এমনকি জেলখানায় জন্মানো শিশুটিও নিস্তার পেত না!

উত্তর কোরিয়ার উত্তর পূর্ব সীমান্তে হোয়ের ইয়ং কাউন্টিতে ২২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই নরকের অবস্থান ছিল। চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা এই ক্যাম্প ১০ ফুট চওড়া ৩,৩০০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক বেড়া দিয়ে আবৃত। কঠোর নিরাপত্তা এবং ক্যাম্প পরিচালনার জন্য প্রায় ১,০০০ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এবং প্রশিক্ষিত কুকুরসহ পাহারাদার এবং ৫০০–৬০০ কর্মকর্তা ছিল। কিছু দূর পর পর ল্যান্ড মাইন এবং মানুষ মারার গোপন ফাঁদ ছিল এখানে। প্রায় ৫০ হাজার নারী পুরুষ ও শিশুবন্দী ছিল বলে জানা যায়। এরকম ভয়াবহ নরক উত্তর কোরিয়ায় আরো রয়েছে। এসব ক্যাম্পের বন্দীদের দিয়ে চাষবাস থেকে শুরু করে কারখানার কাজও করানো হয়। উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির একটা বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে এই ক্যাম্পগুলোর শিল্পোৎপাদন।

 

 

1488883410424

এত কঠোর নিরাপত্তার পরও বহির্বিশ্বের মানুষ এই ক্যাম্পগুলোর অস্তিত্ব এবং এর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পেরেছে সেই সব মানুষের কাছ থেকে যারা এক সময় এই ক্যাম্পে কর্মী হিসেবে ছিলেন এবং কেউবা পালিয়ে এসেছেন সেই নরক থেকে।

ডেভিড হক নামে এক মানবাধিকার গবেষক ক্যাম্প ২২ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেন। তিনি ক্যাম্পের কিছু সাবেক পাহারাদার এবং পালিয়ে আসা বন্দিদের কাছ থেকে বেশ কিছু সাক্ষাৎকার নেন। ম্যাং চল নামক এক প্রহরী ক্যাম্পে বন্দীদের কী ধরণের নির্যাতন করা হতো সব কিছুর বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি জানান, কেউ যদি একবার এখানে ঢুকত, তবে তিন মাসের মাঝেই মারা যেত। আর না মারা গেলেও সারা জীবনের জন্য অথর্ব হয়ে যেত। এখানে গার্ডদের ট্রেনিং এর সময় বলা হতো, ক্যাম্পের বন্দীরা মানুষ নয়, তাদের সাথে কুকুর বিড়ালের মতো আচরণ করতে হবে। আর গার্ড চাইলেই যেকোনো বন্দীকে যখন খুশি মেরে ফেলতে পারবে। এ ব্যাপারে কোনো জবাবদিহি করতে হবে না। কখনো কখনো এমন হয়েছে, কোন বন্দীকে তলবের পর তার আসতে খানিক দেরি হয়েছে বা দুর্বলতার ধীর পায়ে হেঁটে এসেছে, এই অপরাধের জন্য গার্ড সেই বন্দীকে মেরে ফেলেছে।

এখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করতে হতো বন্দীদের

ক্যাম্পের বন্দীদের কাছে মৃত্যু খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা। কারণ প্রতিদিন কেউ না কেউ চোখের সামনে মারা যায়। তবে মৃতদের মাঝে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। হতভাগা শিশুদের বাবা মাও জানতে পারে না কখন কোথায় তাদের আদরের সন্তানটি মারা গেছে। সেখানে মরাকান্নাও নিষিদ্ধ। ম্যাং চলের ভাষ্যমতে, প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ এর অধিক বন্দী মারা যায়। কখনো গার্ডের হাতে, কখনোবা অতি পুষ্টিহীনতায় কিংবা নির্যাতনের কারণে।

তিনি আরও জানান, ক্যাম্পগুলোতে বন্দীদের অমানবিক পরিশ্রম করানো হতো। চাষের ক্ষেত থেকে শুরু করে খনি এবং ফ্যাক্টরিগুলোতে সপ্তাহে ৭ দিন দৈনিক ১৫ ঘন্টা কাজ করতে হতো। গ্রীষ্মে সকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। ছুটির দিন বলতে বছরের প্রথম দিন। অবশ্য ২০০৩ সালের পর কিম জন উনের জন্মদিন উপলক্ষে ক্যাম্পগুলোতে ৪ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতটাই ‘মহান’ নেতা কিম!

এক রুমে ১০০ জন করে বন্দী থাকতো। সবাই গণ টয়লেট যা কখনোই পরিষ্কার করা হতো না। বড় কাজ শেষে তারা শুকনো পাতা দিয়ে পরিষ্কার হত। যেসব বন্দীরা ভালোভাবে কাজ করে, তারা মাঝে মাঝে পরিবারের সাথে থাকার সুযোগ পেত। থাকার জন্য ছোট্ট রুম বরাদ্দ থাকে, যাকে রুম না বলে খুপরি বলা চলে।

আর খাবারদাবার বলতে দিনে ২ বার ১৮০ গ্রাম পরিমাণ ভুট্টা দেয়া হতো। কোনো ধরণের সবজি কিংবা মাংসের ছোঁয়া পেত না বন্দীদের জিহ্বা। বন্দীরা অবশ্য হাতের কাছে যা পেত তারই মাংস খেতো, যেমন ইঁদুর, সাপ এবং ব্যাং যখন যা খুঁজে পেত। তবে প্রহরীদের চোখে পড়লে বেশ বিপদে পড়তে হতো বেচারাদের। তাই কখনো কখনো ইঁদুরের পচা মাংস কিংবা চামড়া না ছাড়িয়েই খেতো যাতে প্রহরীরা দেখতে না পায়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। ১০ বছর বয়স হওয়ার আগেই অনেক শিশু পুষ্টিহীনতায় মারা যায়।

ম্যাং চল যখন প্রহরী হিসেবে ক্যাম্পে আসেন, তখন তিনি দেখতে পান জীবন্ত সব কঙ্কাল ঘুরে বেড়াচ্ছে। কারো অক্ষিকোটরে একটি চোখ নেই, তো কারো সারা শরীর আগুনে পুড়ে গেছে, কারো বা ২টি পা নেই কিংবা কোনো না কোনো অঙ্গ বিকৃত কিংবা কারো হাতের হাড় ভেঙ্গে বের হয়ে এসেছে। কারো আবার গালে এক পাটি দাঁত নেই। বন্দীদের দশা এতটাই করুণ!

তিনি বলেন, ৩০ ভাগেরও বেশি বন্দী শারিরিকভাবে কাজে অক্ষম। কারণ তাদের এমন নির্যাতন করা হয় যে তিন মাসের মাঝেই মৃত্যু নিশ্চিত। নতুন নতুন বন্দীদের জায়গা দিতে হয় বলে মানুষকে পিঁপড়ার মতো করে পিষে মেরে ফেলা হয়। কখনোবা বন্দীদের থাকার যায়গায় ইচ্ছাকৃত আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। শত শত বন্দী নির্বিচারে মারা যায়, কেউবা ঝলসানো শরীর নিয়ে দিনের পর দিন কাজ করে যায়।

বন্দীদের লাশ খাচ্ছে কুকুরের দল

ম্যাং চল জানান, বন্দীদের মৃতদেহের সৎকার তো দূরেই থাক বরং যে বর্বরতার সহিত সেই লাশগুলোর একটা ‘গতি’ করা হয় তা শুনলে যে কারো গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে। অধিকাংশ লাশ ট্রাকে করে পাঠানো হতো কয়লা বানানোর জন্য। কয়লার মিশিয়ে লাশগুলোকে বড় বড় চুল্লিতে পুড়িয়ে কয়লা বানানো হতো। আর যে ছাই পাওয়া যেত তা জমিতে ব্যবহার করা হতো উর্বরতার জন্য।

তিনি বলেন, ক্যাম্পে সয়া সস, বিস্কুট এবং বিনপেস্টের একটি কারখানা রয়েছে যেখানে শুধুমাত্র ২০-৩০ বছর বয়সী সুন্দরী নারীরা কাজ করে। আর তাদের পরনে থাকে পাতলা সাদা কাপড়। কর্তব্যরত অফিসার এবং গার্ডরা তাদের যখন ইচ্ছা ধর্ষণ করে। যদি কোনো নারী বাধা প্রদান করে, তাকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয় কিংবা গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়।

বন্দীদের গর্ভপাত করানোর দৃশ্য

তিনি জানান, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপারটি ঘটে নারীরা যখন গর্ভবতী হতো। ক্যাম্পে নারী বন্দীদের গর্ভবতী হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ এতে ক্যাম্পের জনসংখা বৃদ্ধি পাবে। কোনো নারী যদি সন্তান প্রসব করেও ফেলে তবে সদ্যজাত শিশুটিকে দেয়ালে আছড়ে মারা হয় কিংবা মাকে বাধ্য করা হয় নিজের সন্তানকে হত্যা করতে। গর্ভবতী নারীদের জোরপূর্বক পেট কেটে গর্ভপাত করানো হতো ।কখনো বা ভারিপাথর হাতে নিয়ে দৌড় দিতে বলা হতো কিংবা গর্ভবতীর পেটের উপর বড় তক্তা বসিয়ে ২ পাশ থেকে ২ জন চাপ দিত। গর্ভপাতের বিষয়টি এতটাই ভয়াবহ যে অনেকসময় বন্দিনী মারাও যেত।

গর্ভবতী হওয়ার শাস্তি

ম্যাং চল বলেন, জ্ঞান বিজ্ঞানের নানা পরীক্ষা নিরীক্ষায় এই বন্দীদের ব্যবহার করা হতো। গ্যাস চেম্বারে বিভিন্ন গ্যাসের পরীক্ষা নিরীক্ষায় এবং নতুন কোনো ঔষধের পরীক্ষা করতে এদের ব্যবহার করা হতো। সবচেয়ে পৈশাচিক ব্যাপার হলো- অস্ত্রোপচারের সময় কোনো চেতনানাশক বা অ্যানেস্থেশিয়া ব্যবহার করা হতো না। হাতভাগা বন্দীদের আর্তচিৎকার পরীক্ষারত ডাক্তার ও বিজ্ঞানীদের পাশবিক আনন্দ দিত।

ক্যাম্প ২২ বর্তমানে বন্ধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ক্যাম্প ২২ বন্ধ হলেও মুক্তি পায়নি তার বন্দীরা। ২০,০০০ বন্দীর মাঝে মোটামুটি ৮,০০০ বন্দীকে ক্যাম্প ২৫ এ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বাকিদের কোনো হদিস নেই।

হিন্দুনববার্তা বাংলা ডেস্ক:

সূত্র: ডেইলি মেইল

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s