বড় ধাক্কা শাসক দলের, খুব শীঘ্রই গ্রেপ্তার হতে চলেছেন এক প্রভাবশালী মন্ত্রী।

1489330857067

হিন্দুনববার্তা বাংলা ডেস্ক: March 12.03.2017.

 

২০১৪ এর লোকসভা ভোটের আগে থেকেই নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ সহ সমগ্র বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ত্ব ‘কংগ্রেস মুক্ত’ ভারতের স্লোগান দিতে থাকেন এবং লোকসভা ভোটের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা যে এই কাজে বৃহদংশে সফল সেকথা বলায় যায়। লোকসভায় কোনোরকমে মাত্র ৪৪ জন সাংসদ নিয়ে প্রধান বিরোধীদলের তকমাও জোটে না কংগ্রেসের। এরপর বিভিন্ন ইস্যুতে কংগ্রেসকে বারবার বিব্রত রেখেছে কেন্দ্র সরকার, তা সে সোনিয়া জামাতা রবার্ট ভদ্রের জমি কেলেঙ্কারিই হোক বা রাহুল-সোনিয়ার বিরুদ্ধে সম্পত্তি মামলা বা রাজস্থানে প্রাক্তন দুঁদে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আর্থিক বেনিয়মের তীর!

কংগ্রেস যখন ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু এবং বিজেপির বিভিন্ন আক্রমণে ক্রমশ দিশাহারা তখন বিরোধীদের নেতৃত্ত্বের শূন্যস্থানে প্রবলভাবে নিজের জায়গা পাকা করে নিচ্ছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, রাজ্যসভায় মমতার কাছ থেকে বারবার পরাজয় স্বীকার করতে হচ্ছিল নরেন্দ্র মোদীকে, জমি বিল থেকে শুরু করে জিএসটি সবেতেই কার্যত মমতার দাক্ষিণ্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল কেন্দ্র সরকার। কাকতালীয় ভাবে ঠিক এই সময়েই মমতার দলের উপর সারদা থেকে রোজভ্যালি হয়ে নারদ – একের পর এক আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত চেপে বসছিল। যদিও মোদী সরকার বারবার দাবি করে এসেছে এইসব আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্তের পিছনে তাদের কোনো ইশারা নেই, কিনতু রাজনৈতিক মহলে প্রবল ফিসফাস শোনা যায় যে মমতাকে বাগে আনতেই এই সব তদন্ত সামনে আসে। মমতাও এর পর তাঁর জঙ্গি আন্দোলন থামিয়ে কেন্দ্রের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে, কাকতালীয় ভাবে এইসব তদন্তে ঢিমে পরে যায়।

এরপর আবার কিছুদিন আগে লেগে যায় মমতা-মোদীর, রোজভ্যালি কাণ্ডে মমতার দুই সাংসদকে গ্রেপ্তার করা হয়, মমতাও পাল্টা দিয়ে গ্রেপ্তার করেন বিজেপির দুই প্রভাবশালী নেতা-নেত্রীকে। যদিও এরপরে দুই পক্ষই বেশ থামথুম হয়ে যায় রাজ্যে চলা বিভিন্ন পরীক্ষার দোহায় দিয়ে, কিনতু রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আসলে দুপক্ষই জল মাপছিল উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন ঘিরে। এরপরে উত্তরপ্রদেশের আকাশচুম্বী সাফল্যের পরে বিজেপি কার্যত দেশ থেকে কংগ্রেসকে মুছে দিতে সফল, অন্যান্য বিরোধীদের মধ্যে উড়িষ্যায় নবীন পট্টনায়ক ও বিহারে নীতিশ কুমারকে কাছে টানার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, দক্ষিণে তামিলনাড়ুতে এএইএডিএমকে ও ডিএমকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ঝামেলা নিয়ে ব্যস্ত, অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির বাইরে পা রাখতে পারেন নি তথা তাঁর জনপ্রিয়তা ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু, সুতরাং বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ বলতে এখন শুধু মমতা ব্যানার্জী (উত্তরপ্রদেশের এই ফলের পর অখিলেশ-মায়াবতী আপাতত সাইনবোর্ড হয়ে গেলেন), সুতরাং ২০১৯ এ মোদীর সবথেকে বড় মাথাব্যথার কারন হয়ে উঠতে পারেন এক মমতা এবং গতিপ্রকৃতি যেদিকে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ৪২ টির মধ্যে ৪০ টি আসন মমতার ঝুলিতে গেলে আশ্চর্য্যের কিছু নেই। আর তার ২ বছরের মধ্যেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন, সেখানেও ক্ষমতা দখলকে যে পাখির চোখ করে এখন থেকে অমিত শাহরা এগোবেন বলায় বাহুল্য।

আর তাই বিভিন্ন আর্থিক বেনিয়মের তদন্ত এবার গতি পাবে এবং সূত্রের খবর অনুযায়ী মমতার মাজরাটাই ভেঙ্গে দিতে প্রথমেই টার্গেট পূর্ব মেদিনীপুরের এক অতি প্রভাবশালী মন্ত্রী।মুকুল রায় দলীয় সংগঠনের কাজে পিছনের সারিতে চলে যাওয়ার পর, তৃণমূলের সংগঠনের দায়িত্ত্ব এখন একপ্রকার এই নেতার কাঁধেই, শুধু তাই নয়, কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি গুলো ভাঙ্গতে মমতা এই নেতাকেই দায়িত্ত্ব দেন এবং তিনি যে তাতে বেশ সফল, রাজ্য রাজনীতির খোঁজ রাখা সকলের কাছে তা পরিষ্কার। তাই এই নেতা-মন্ত্রীকে জেলে ঢোকাতে পারলে দ্বিফলা আক্রমন করা যাবে শাসকদলকে, এক, সংগঠন অনেকটাই ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা, দুই, এইরকম তাবড় নেতা জেলে যাওয়ায় অনেক নেতা-কর্মী বসে যাবেন বা অন্য সম্ভাবনাময় দলে যোগ দিতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আগামী দিনে মেরুকরণ অবশ্যম্ভাবী এবং তারই প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে এই মন্ত্রীর জেলে যাওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

হিন্দুনববার্তা বাংলা ডেস্ক:

ভালো লাগলে শেয়ার করুন –
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s