সুরঞ্জিতের শেষকৃত্যের দিন জন্মদিন পালনে ব্যস্ত ছিলেন নেতারা!

সুরঞ্জিতের শেষকৃত্যের দিন জন্মদিন পালনে ব্যস্ত ছিলেন নেতারা!

1489564428480

 

হিন্দুনববার্তা বাংলা ডেস্ক:March. 15.03.2017.

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এবং সাবেক এমপি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের সময় তার মুখে চন্দন কাঠ দিয়ে যখন দেহ পোড়ানো হচ্ছিল ঠিক তখন কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অপর একজন নেতার জন্মদিন পালন করে উল্লাস করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের জন্মদিন অনুষ্ঠান পালনের এমন একটি ছবি দৈনিক আমার সংবাদের কাছে এসে পৌঁছেছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন নেতার সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তারা ওই বিষয়ের কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। এলোমেলোভাবে কথা বলে এড়িয়ে যান এবং ফোন কেটে দেন। তবে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের হিসেবেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের অফিসে সংগঠনটির সহসভাপতি এবং আওয়ামী লীগ নেতা সঞ্জীব রঞ্জন দাসের জন্মদিন পালন হয়। একইদিন সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলা সদরে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের গ্রামে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান চলছিল।

 

1478854516848

 

জানা গেছে জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানে পাশে থেকে কেক কেটে এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে সঞ্জীব রঞ্জন দাসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুটসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান প্রথমেই অস্বীকার করে এলোমেলো ভাবে বলেন, না মানে সঞ্জীব রঞ্জন দাস এর জন্মদিন মনে পড়ছে না। তাকে তো আমি চিনিই না।

আপনার একটা ছবি আছে সেখানে দেখা যাচ্ছে আপনি সুনামগঞ্জ চেম্বার-কমার্স অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর সহ-সভাপতি সঞ্জীব রঞ্জন দাসের জন্মদিন পালন করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি দৈনিক আমার সংবাদের কাছে স্বীকার করে বলেন, হ্যাঁ সুনামগঞ্জ চেম্বার-কমার্স অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর সহ-সভাপতি সঞ্জীব রঞ্জন দাসের জন্মদিন পালন করেছি আমিসহ স্থানীয় নেতারা। তবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের দিন নয়।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের দিন আপনি কোথায় ছিলেন, উত্তরে মতিউর বলেন, সেদিন আমি তো দিরাই ছিলাম। আমি সুনামগঞ্জে তাকে রিসিভ করেছি। সকাল থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত দিরাই অবস্থান করেছি। ওই দিন সঞ্জীব এর জন্মদিন পালন প্রশ্নই আশে না।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই ফেসবুকে নানা মন্তব্য করে জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তাদেরই একজন সমীর কাউসার। নিউয়র্ক থেকে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন একদিকে জাতীয় নেতার মুখে চন্দন কাঠের আগুন, অন্যপ্রান্তরে তখন রঙ্গিন মোমবাতিতে আগুন দিয়ে জন্মদিনের আনন্দ উল্লাস এবং নোংরা রাজনীতির বহির্প্রকাশ…….! রাজনৈতিক, এলাকা ভিত্তিক ও সাম্প্রদায়িক এই ভিন্ন সমীকরণের হিসেব মিলাতে কেউ কেউ দলের ভিতরে থেকে, কেউ কেউ অন্যদল থেকে, কেউ কেউ নিজতন্ত্র থেকেই জীবিত বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের” বিপরীত অবস্থানে ছিলেন।

কাহারো আচরণ প্রকাশ্যে বুঝা না গেলেও, বিচক্ষণ নেতা বাবু মশাই কাঁচ ও হীরে চিনতে পারদর্শী ছিলেন। তাইতো তিনি মাঝে মাঝে বলতেন, রাজনীতিতে আপন-পর বলতে কিছু নেই, আজকে যে লোকটি আমার জন্য তাহার জান দিতে প্রস্তুত, আগামী কালকে অন্যকে পুলকিত করিতে, আমার জান কবজ করিতে বিচলিত হবে না।

তাহার পরও কিছু লোক স্পেশাল থেকে যায়। সেই স্পেশাল লোক গুলো কে বা কাহারা ? তাহাও তিনি জানা ও বুঝার চেষ্টা করতেন। উনার সাম্প্রদায়িকতার সুরে কিছু অসম্প্রদায়িক বক্তব্যে আমি হতাশ হতাম। তাইতো মাঝে মধ্যে ক্ষেঁপে গিয়ে সমালোচনাও করতাম। তবে সেটা ছিল স্বল্প ও সীমিত আকারে। এছাড়া আমার কথা পাত্তাই দিতো কয়জনে …………… ?

সেদিন পাঁচ ফেব্রুয়ারীতে নিউইয়র্কে তখন সূর্য্য পশ্চিমে অস্ত গিয়ে সন্ধ্যা হতে চলেছে, সেন বাবুর মহা-প্রস্থানের বার্তায় কেমন জানি আচমকা কষ্টে মনে হয়েছিল এই বুঝি ভাটিবাংলায় সন্ধ্যা নেমে আসলো…..! সেদিনের চিন্তা চেতনায় ভাবতে ছিলাম…….শুধু দিরাই আর শাল্লায় নহে, পুরো ভাটিবাংলায় যেন আজ বেদনার সুর। দিরাই শাল্লার আকাশে সূর্য উঠবে- সুর্য ডুববে, রোদ বৃষ্টি ধারাবাহিকভাবে চলবে,শীত যাবে, বর্ষা আসবে। কিন্তু এই সুরঞ্জিত নামের সূর্য্য আর কোন কালে উদিত হবে না। এই রৌদ্রের সকাল আর কোন কালে ভোর হয়ে আসিবেনা।

এই হিমেল হাওয়া আর বইবেনা গো ভাটির হাওরে, এই বৃষ্টি আর ঝরিবেনাগো ভাটির আঙ্গিনায়,এই বসন্তের হাওয়া আর কোন দিন মন রাঙ্গাবেনা ভাটির জনগণের……….. !! সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নামের এই মহা-তারকা আর কোন দিন এই বাংলার আকাশে উদিত হবে না। মানুষ যাবে, মানুষ আসবে। রাজনীতি থাকবে, রাজনীতির নেতারাও থাকবেন। থাকবেন না শুধু বিষ খাওয়া, বিষে পোড়া এই মানুষটি।

উনার মহা-প্রস্থানের সংবাদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সংসদের বাহিরে আসনবিহীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও বলেছিলেন, এই বর্ষীয়ান নেতা চলে যাওয়ায় যে ক্ষতি হয়েছে- তাহা কোন কোন দিন পূরণ হবার

 

হিন্দুনববার্তা বাংলা ডেস্ক:March. 15.03.2017.

শেয়ার  করুন।

প্রকাশ : বিডি এক্সপ্রেস।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s