কারো ধর্ম সম্পর্কে কটাক্ষ করা উচিত নয়; হাইকোর্ট।

 কারো ধর্ম সম্পর্কে কটাক্ষ করা উচিত নয়; হাইকোর্ট।

1491216544905

ডেস্ক নিউজঃ কোনো ধর্ম নিয়ে কেউ বিরূপ মন্তব্য করলে তাকে আইনের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে; কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই বলে মত দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে গতকাল রবিবার আদালত এই মতামত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে হাইকোর্ট কারো ধর্ম সম্পর্কে কারোরই কটাক্ষ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন। আর ইমামদের দায়িত্ব সম্পর্কে হাইকোর্ট বলেছেন, একজন ইমামের দায়িত্ব হলো মুসল্লিদের নামাজ পড়ানো। ইসলাম সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান। তিনি এমন কোনো বয়ান দেবেন না, যা দেশের প্রচলিত আইনবহির্ভূত।

ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সম্পর্কে হাইকোর্ট তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, যদি কেউ ইসলাম এবং মুহাম্মদ (সা.) অথবা যেকোনো ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তাহলে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই।

এ ছাড়া আদালত রাজীব হায়দার হত্যা মামলার আসামি উচ্চশিক্ষিত মেধাবী তরুণদের বিপথে যাওয়ার পেছনে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষা, সন্তানের দিকে অভিভাবকের খেয়াল না রাখা, আভিজাত্য ইত্যাদি প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।

আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘এ মামলার আসামি মুফতি জসীমউদ্দিন রাহমানী ছাড়া বাকি সবাই মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা কেন এই পথে এসেছে তা বোধগম্য নয়। এ ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিপথে যাওয়ার জন্য অভিভাবকরাই দায়ী বলে অনেকে মনে করেন।

আদালত বলেন, ওই আসামিদের সকলের মা-বাবা উচ্চশিক্ষিত। তাঁদের উচিত ছিল সন্তানদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া। কিন্তু তাঁরা তা দিতে পারেননি। সে কারণে তারা গোল্লায় গেছে।

পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, ‘আমরা নিজেদের লাইফ স্টাইল (জীবনাচার) কিভাবে উন্নত করা যায় সেটা নিয়েই ব্যস্ত থাকি। শিশুসন্তানদের মানসিক অবস্থার কথা, তারা কী করতে চায়, কোন বিষয়ে পড়তে চায়, তা না জেনে তার (শিক্ষার্থী) মনের বিরুদ্ধে অনেক কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়। এতে তাদের সঠিকভাবে বাড়তে দেওয়া হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে পড়ে। ’

আদালত মতামত দিয়ে বলেন, এ প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত। এমনকি রাষ্ট্রসহ সচেতন নাগরিকদের চিন্তা করতে হবে—সুস্থ রাজনীতি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান, স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। নিঃসন্দেহে অভিভাবকরা শিশুর প্রাথমিক শিক্ষক। তাই তাদের সেভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব পালন করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনার বিষয়েও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত। তাতে বলা হয়, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সেসব ব্যক্তিকে নিয়োগ করা উচিত যাদের দেশের জনগণের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আন্তরিকতার সঙ্গে সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করবে। তাহলে এ ধরনের অপরাধ সমাজ তথা দেশ থেকে কমবে। দেশের স্বার্থে আইজিপি (পুলিশের মহাপরিদর্শক) অবশ্যই বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে দেখবেন।

ব্লগার রাজীব হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড এবং একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ আট আসামিকে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ রায় দেন।

রায়ে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপকে মৃত্যুদণ্ড; মাকসুর হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড; এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড; আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দিন রাহমানীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

the magazin news hindunobobarta.wordpress.com.

 

সুত্র:

এইবেলাডটকম/

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s