দঃ দিনাজপুর জেলায় আদিবাসীদের বাসন্তীপূজার প্রতিমা লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলা হল।

দঃ দিনাজপুর জেলায় আদিবাসীদের বাসন্তীপূজার প্রতিমা লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলা হল।

1491829210914

গত ৯ এপ্রিল রাতে দঃ দিনাজপুর জেলার ধলাহাট গ্রামের আদিবাসীরা মুসলিম দুষ্কৃতিদের ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয় এবং তাদের বাসন্তীপূজার প্রতিমা লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলা হয়।

বালুরঘাট মহকুমার হরিরামপুর থানার অন্তর্গত ধলাহাট গ্রামে আদিবাসী সাঁওতালদের বাস। বহুদিন থেকেই তারা বাসন্তীপূজা করে। ধলাহাট প্রাথমিক স্কুলপ্রাঙ্গনে  এই পূজা উপলক্ষে একটি ছোট-খাট মেলাও  বসে। ৯ এপ্রিল ছিল চারদিন ব্যাপী এই পূজার দশমী ও শেষ দিন। রাত্রে বিসর্জন হওয়ার কথা। সন্ধ্যায় ভিড় একটু কম ছিল। সন্ধ্যা ৬-৩০ নাগাদ কয়েকজন মুসলিম এসে মেলা প্রাঙ্গণে জুয়ার আসর বসায়। পূজা কমিটির সদস্যরা খবর পেয়ে তাদেরকে জুয়া খেলা বন্ধ করতে বলে। এই মেলায় কোনদিনই জুয়া খেলার আসর বসে না। জুয়াড়িরা পূজা কমিটির কথা গ্রাহ্য করে না। তখন বচসা হয় এবং ধাক্কাধাক্কি হয়। মুহূর্তের মধ্যে ৪০ – ৫০ জন মুসলমান জড়ো হয়ে পূজা কমিটির অফিস আক্রমণ করে ও ভাঙচুর শুরু করে। তখন কমিটির মাত্র সাত আট জন সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাই তারা এদের আটকাতে পারে না। দুর্বৃত্তরা অফিসের চেয়ার টেবিল ভাঙ্গে , পূজা-প্যান্ডেল তছনছ করে এবং লাথি মেরে বাসন্তী দেবীপ্রতিমা ভেঙ্গে দেয়। কমিটির সদস্যরা বাধা দিতে গেলে লাঠি, হাঁসুয়া ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুষ্কৃতিরা তাদেরকে আঘাত করে। এই আক্রমণে প্রায় ১৬ জন হিন্দু আহত হয় এবং আদিবাসী মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয়। আহতদের মধ্যে দিলীপ মুর্মু (৪০)-র মাথা ফেটেছে। সে এখন হরিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। অন্য আহতরা হল, গোবিন্দ মুর্মু (১৮), সায়লা সরেন (২০), ফালকু সরেন (২১), অনন্ত সরকার (২২), রবিন মুর্মু (২৮), এদের সকলকেই হরিরামপুর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পদমণি হাঁসদা (২৮), পিঙ্কি মুর্মু (৩০), সাইলি কিসকু (৩৫) এবং আরও কয়েকজন আদিবাসী মহিলা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এই আক্রমণে নেতৃত্ব দেয় মনোহরা ডাঙাপাড়া নিবাসী আনিকুল ইসলাম (পিতা-আনিসুর ), সাদিকুল ইসলাম (পিতা ঐ ) এবং মিনারুল ইসলাম (পিতা- থাম্বা)।

  এই ভয়াবহ আক্রমণের খবর পেয়ে কয়েকশত আদিবাসী ও অন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা জড়ো হয়। বাসন্তী ঠাকুরের মূর্ত্তি দেখে  এবং অত্যাচারের কথা জেনে তাদের ক্ষোভ চরমে ওঠে।  দীর্ঘদিন ধরেই এরকম পরিস্থিতির তারা শিকার। বিশেষতঃ  মেয়েদের উপর দুষ্কৃতিদের কুনজর তাদের কাছে খুব চিন্তার বিষয়। তাই সমবেত ভাবে কয়েকশ আদিবাসী গুরুত্বপূর্ণ ইটাহার – দৌলতপুর রাস্তা অবরোধ করে। দুষ্কৃতিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তাদের এই অবরোধ। ইতিমধ্যে হরিরামপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ আসে কিন্তু অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কোন তৎপরতা দেখায় না। রাত্রি প্রায় দুটোর সময়  RAF ঘটনাস্থলে আসে এবং কোন কথা না বলে রাস্তা অবরোধকারীদের উপর প্রচন্ড  লাঠিচার্জ শুরু করে। তাতে অনেক আদিবাসী গুরুতর আহত হয় এবং ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সেই সুযোগে পুলিস ভাঙ্গা বাসন্তী প্রতিমা স্থানীয় একটি পুকুরে বিসর্জন দিয়ে দেয়। পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলে যে, হিন্দু ও মুসলমান-দুপক্ষের লোককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিন্তু  স্থানীয়সূত্রে খবর, পুলিশ একজনও দুষ্কৃতিকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও ১১ জন আদিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে।

 এই পশ্চাদপদ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ততোধিক পশ্চাদপদ আদিবাসী সমাজ বহুবছর ধরে নয়, বহু দশক ধরে এইরকম অত্যাচারের শিকার। সবল নেতৃত্বের অভাবে এবং পুলিশ প্রশাসন ও পার্টির মুসলিম তোষণের জন্য আদিবাসীরা এই দীর্ঘ অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছেনা।

হিন্দু নববার্তা ম্যাগাজিঙ নিউজ ১০.০৪.২০১৭.

ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s