লাভ জিহাদের জবাবে পাল্টা লাভ জিহাদে থাকা সুখী দম্পতী।

লাভ জিহাদের জবাবে পাল্টা লাভ জিহাদে থাকা সুখী দম্পতী।

1492940317561

হিন্দু বাড়িতে অন্য ধর্মে কোন ছেলে কিংবা মেয়েকে প্রেম করলেই গেল গেল রব শোনা যায়৷ একইরকমভাবে উল্টোটাও হতে দেখা যায়৷ যুগলদের বহু বাধা বিপত্তির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়৷ অধিকাংশ সময়ই পরিবার মেনে নেয় না৷ বিশেষ আইনের সাহায্য নিয়ে বিয়ে নথিভুক্ত করতে হয়৷ আবার দেখা যায়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেনে নিলেও, শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট একটি ধর্ম পরিবর্তন করতে কার্যত বাধ্য হয় সেই যুবক কিংবা যুবতিকে৷ সেই রীতিতে কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটছে  এবার এ রাজ্যে৷

    নিরুপা সুলতানা আর গোপাল কোঁড়া৷ দু’বছর হল বিয়ে হয়েছে৷ একটি সাত মাসের পুত্র সন্তান রয়েছে৷ গোপাল কলকাতায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে৷

  হানিফা পারভিন আর কৌশিক রাহা৷ সাত বছর বিবাহিত৷ পুত্র সন্তানের বয়স পাঁচ৷ কৌশিক একটি বহুজাতিক অনলাইন সংস্থায় কর্মরত৷

    শবনম কোতুল বানু আর শেখর মণ্ডল৷ সাত বছর বিবাহিত৷ পুত্র সন্তানের বয়স ছয় বছর৷ শেখর কাজ করে বসিরহাটের একটি ইলেট্রনিক্স সংস্থার সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে৷   হালিমা খাতুন আর সুব্রত দাস৷ আট বছরের বিবাহিত জীবন৷ সন্তানও এখন বছর ছ’য়েকের৷ বেসরকারি সংস্থার কাজ করেন সুব্রত৷ সাবিনা ইসমিন আর বাবলু মাখাল৷ সাত পেরিয়ে আটে পড়েছে বিবাহিত জীবন৷ পুত্র সন্তান রয়েছে৷   হাসনাহানা পেয়াদা আর শুভজিৎ জানা৷ ছয় বছর হল বিয়ে হয়েছে৷ বছর চারেকের পুত্র সন্তানও৷ ইলেকট্রিকের কাজ করেন শুভজিৎ৷

এই সাত দম্পতিই নানা সামাজিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন৷ তবে, একটা লক্ষণীয় ব্যাপার হল বিয়ের পর নিরুপা, সাবিনা, হানিফা, হালিমাদের শুধু পদবীই পাল্টায়নি, পাল্টেছে নামও৷ নিরুপা সুলতানা হয়েছেন রূপা কোঁড়া৷ হানিফা পারভিন হয়েছেন পুজা মণ্ডল৷ হাসনাহানা পেয়াদা হয়েছেন তৃষ্ণা জানা৷ সাবিনা ইসমিন হয়েছেন মিঠু মাখাল৷ হালিমা খাতুন হয়েছেন সুনীতি দাস৷ শুধু এই সাতজনই নয়, এরকম দম্পতিদের তালিকায় আরও লম্বা৷ এখানেই শেষ নয়, প্রত্যেক মহিলাই পরিবারের রীতি ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় নতুন জীবন ধারায় সংসার করা শুরু করেছে৷

1492939995083

 

তবে, এদের সবাইকে বিপদে আপদে আগলে রাখেন এক প্রৌঢ়৷ প্রত্যেক দম্পতিই তাঁকে ভালবেসে ‘বাবা’ বলে সম্মোধন করে৷ তিনি হলেন ‘হিন্দু সংহতি’-র প্রাণ পুরুষ তপন ঘোষ৷ এক সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রচারক ছিলেন৷ অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ সামলেছিলেন৷ রজরং দলের জাতীয় নেতাও হয়েছিলেন৷ কিন্ত্ত নিজের ঘরানায় প্রতিরোধ আন্দোলন গড়তে তৈরি করেন ‘হিন্দু সংহতি’৷ পূর্ব ভারতে সদস্যও ক্রমশ বাড়ছে৷

এই সমস্ত বিশেষ দম্পতিদের কেউ কেউ হিন্দু সংহতির সঙ্গে বিয়ের আগে থেকে যুক্ত ছিলেন৷ অধিকাংশই দাবি করেছেন, বিয়ের পরই নানান সূত্র ধরে এই সংগঠনের সংস্পর্শে এসেছেন৷ তবে, ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে হইচই করা হিন্দু সংহতির সভাপতি তপন ঘোষের কথাতেই আবার উলটো পথে হাটার কথা শোনালেন৷ বললেন, ‘কোনও যুবক অন্য ধর্মের কন্যাদের বিয়ে করলে তাদের একঘরে করবেন না৷ উল্টে তাদের পাশে দাড়ান৷ নতুন দম্পতিকে যত রকমের সাহায্য করতে হবে৷ ওই নববধূকে হিন্দু ধর্মের লোকাচারে অভ্যস্ত করে প্রকৃত হিন্দু করে তোলাটই আমাদের উদ্দেশ্য৷’ রীতিমতো দৃঢ় স্বরে তপন ঘোষ জানালেন, ‘ এটা আমাদের পাল্টা লাভ জিহাদ৷ গত কয়েকশো বছর ধরে লাভ জিহাদের মাধ্যমে হিন্দু মেয়েদের অন্য ধর্ম বিশ্বাসে পাল্টে ফেলা হচ্ছে৷ তাই, আমি সদস্যদের মধ্যে বিশেষ করে অবিবাহিত সদস্যদের অন্য ধর্মের মহিলাদের বিয়ে করার ব্যাপারে উত্সাহ দিই৷’

দম্পতিদের দাবি মতো, শুরুতে কোনও দম্পতিই একে অপরকে চিনত না৷ ঝড় ঝাপটা অনেক এসেছে৷ সব উপেক্ষা করে নতুন পরিচয়ে দিব্যি সুখে সংসার করছেন সকলে৷ এই সুখের সংসারে এখনও নিত্য নতুন ঝঞ্ধাট এসে পড়লেও তা মিটেও যাচ্ছে ৷ ঘটনাচক্রে গত ন’বছর ধরে তপন ঘোষ এক্কেবারে বাবার মতোই প্রায় দু’শো দম্পতির পাশে এসে দাড়িয়েছিলেন৷ নাম পরিবর্তন থেকে মামলা মোকদ্দমা৷ নতুন জীবন ধারার রীতি নীতি শেখানো৷ ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে নিয়ে গিয়ে বৈদিক রীতি রপ্ত করানো৷ সামাজিক ঝড় ঝাপটা থেকে এখনও আগলে রাখছেন সকলকে৷  তা আইনি ঝুট ঝামেলাই হোক বা কর্ম সংস্থান সংক্রান্ত বিষয়ই হোক না কেন৷
যেমন, ক্যানিংয়ের কৌশিক রাহার কথাই ধরা যাক৷ শ্বশুর বাড়ির অপহরণের অভিযোগের ভিত্তিতে কোর্টে হাজিরা যেমন লেগে আছে, তেমন মা – বাবার অপর গ্রামে মারধর করার ফলে জমি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যেতে হয়৷ গণ্ডগোলের জেরে মা – বাবা ছেলের সঙ্গে কথা বলাই থামিয়ে দিয়েছে৷ তেমনই, কুলতলির শুভজিতের পরিবারকে অপহরণের মামলা এখনও সামাল দিতে হচ্ছে৷ মা – বাবাকে নানান সময় প্রচুর ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়৷ বা নিরুপা সুলতানাকে নিয়মিত নানান হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে৷ কেউ কেউ নিজ এলাকায় ফিরতে পারলেও, কেউ কেউ এখনও বাড়ি ফিরতে পারেনি৷ তবে, কারও জীবনই এক্কেবারে পুরোনো ধারায় ফিরিয়ে আনা যায়নি৷ হতাশার সময় একমাত্র আশ্রয় স্থল হল তপন ঘোষের কোনও একটি ডেরা৷ নিরুপা, সাবিনা, হানিফা, হালিমারা প্রত্যেকেই এক বাক্যে স্বীকার করেন, ‘মাসে একবার বাবার কাছে না এলে শান্তি পাই না৷ ঝগড়া ঝামেলা সবই নিমেষে মিলিয়ে যায় ওনার সান্নিধ্য পেল৷ উনি আমাদের সকলকে নতুন জীবন দিয়েছেন৷’

হিন্দু নববার্তা ম্যাগাজিঙ নিউজ ২৩.০৪.২০১৭.

ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s